Bengal Football

‘রবি’র আলোয় ঝলমলে ভারত সেরা বাংলা

বাংলার ফুটবল আকাশে তখন সন্তোষ ট্রফি জয়ের উল্লাসের ছবি। দীর্ঘ কয়েক বছর বাদে রবির আলোয় ঝলমল করে উঠল সন্তোষ ট্রফি। স্বপ্নের দৌড়ে রবি হাঁসদার গোলে কেরলকে পেছনে ফেলে ভারত সেরা বাংলা। রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল খেলায় বাজিমত করল বাংলা। অপরাজিতভাবে সন্তোষ ট্রফি জিতে ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে নাম উজ্জ্বল করল বাংলা। বাংলার ফুটবলাররা বুক বাজিয়ে বলতে পারেন সন্তোষ জয়ের স্রোতে তাঁরা আজও এগিয়ে। সাবাস বাংলার ফুটবলাররা।

Sanjoy Sen Bengal Football

এই সাফল্যের পিছনে অঙ্কের জাদুকর কোচ সঞ্জয় সেন। প্রথম দিন থেকে ফুটবলারদের একটা পরিবারে আবদ্ধ করেছিলেন তিনি। আন্তরিকতা ও ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে সবাইকে বাংলার ফুটবল ইতিহাসের কথা শুনিয়েছিলেন কোচ। সন্তোষ ট্রফি জয়ের গৌরবময় অধ্যায় বাংলার ফুটবলারদের সংগ্রামী মনোভাবের কথা শুনিয়ে রবি হাঁসদা, চাকু মাণ্ডি, নরহরি শ্রেষ্ঠা, আদিত্য থাপা, ইসরাফিল দেওয়ান ও সৌরভ সামন্তদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন কোচ সঞ্জয় সেন। তাই তো ফুটবলাররা সন্তোষ ট্রফি জয়ের স্বপ্নের অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে সাফল্যের ফুলঝুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। সন্তোষ ট্রফি জয়ের উল্লাসে ফুটবলারদের পাশে বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা সাথী হয়ে আরও মুখর করে তুললেন। বাংলাই পারে জয়ের নতুন সূর্যকে আলিঙ্গন করতে। তাই তো বাংলা ২০২৫ সালকে স্বাগত জানিয়েছে ৩৩তম সন্তোষ ট্রফি জয়ের নজির গড়ে।

তাই অপেক্ষা আগামী দিনের জন্য। তবুও, কোথায় যেন একটা জিজ্ঞাসা উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। বাংলার তরুণ প্রতিভার খোঁজে যখন সবাই ছোটাছুটি করছেন তখন সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলা দলে কতজন উদীয়মান ফুটবলারকে খুঁজে পাওয়া গেল? একটা সমীক্ষা করে সেইসব ফুটবলারদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা অইএফএ করতে পারে। অগামী বছরের সন্তোষ ট্রফি ফুটবলের জন্যে পরিকল্পনামাফিক অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে ফুটবলারদের তৈরি করা যেতে পারে। এখনই কোচ নির্বাচন করে আবাসিক শিবিরে তাঁদের যোগ দিতে বলা হোক। তাহলে ধারাবাহিকতা থাকবে।

Bengal Football Club

বাংলার এই কৃতিত্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন— অপেক্ষার অবসান। শুধু অভিনন্দন নয় বাংলার ফুটবলে আনলেন বিপ্লব। অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাংলার সফল ফুটবলারদের হাতে তুলে দিলেন চাকরির ছাড়পত্র। কথা নয়— কাজে দেখিয়ে দিলেন একদিনের মধ্যে চাকরি দিয়ে ফুটবলারদের মুখে হাসি ফোটালেন। সবার পরিবারে নতুন আশা ছড়িয়ে পড়ল। ফুটবল খেলার প্রতি আরও আন্তরিক হওয়ার কথা বললেন খেলাপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বুঝিয়ে দিলেন ফুটবল তাঁর প্রাণ—ময়দান খোলা হাওয়া।

সত্যিই তাই। বাংলার ফুটবল আকাশে জয়ের রোশনাই। সেই আলোর পথ ধরে বাংলার ফুটবলাররা একের পর এক সম্বর্ধনায় ভেসে চলেছেন। আপ্লুত হচ্ছেন প্রত্যেকেই। কিন্তু তার মধ্যে একটা সাবধানী বার্তা পিছন থেকে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে আগামীদিনে আরও বড় জায়গায় পৌঁছতে হবে। অভিনন্দন আর সম্বর্ধনায় হারিয়ে গেলে চলবে না। নিজেদের প্রমাণ করতে হবে একজন সেরা হিসেবে, ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে দিয়ে। আন্তর্জাতিক খেলতে হবে। এখানেই থমকে থাকা নয়। এমন কথা শোনা গেছে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কাছ থেকে, কোচ সঞ্জয় সেনের কাছ থেকে। অভিনন্দনের উত্তর বলতে সেরা খেলা উপহার দেওয়া ফুটবল নক্ষত্রের। তারকা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা।

এখন দেখার বিষয়, বাংলার সফল ফুটবলাররা কলকাতা ফুটবল লিগে তিন প্রধানে কীভাবে জায়গা করে নিতে পারেন। আবার অইএসএল ফুটবলে কোন দলের জার্সি গায়ে খেলতে নামা। এখানেই হারিয়ে যাওয়া নয়। তাই অপেক্ষা আগামী দিনের জন্য। তবুও, কোথায় যেন একটা জিজ্ঞাসা উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। বাংলার তরুণ প্রতিভার খোঁজে যখন সবাই ছোটাছুটি করছেন তখন সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলা দলে কতজন উদীয়মান ফুটবলারকে খুঁজে পাওয়া গেল? একটা সমীক্ষা করে সেইসব ফুটবলারদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা অইএফএ করতে পারে। অগামী বছরের সন্তোষ ট্রফি ফুটবলের জন্যে পরিকল্পনামাফিক অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে ফুটবলারদের তৈরি করা যেতে পারে। এখনই কোচ নির্বাচন করে আবাসিক শিবিরে তাঁদের যোগ দিতে বলা হোক। তাহলে ধারাবাহিকতা থাকবে। ফুটবলাররা নিজেদের তৈরি করে নিতে পারবেন আলাদা মানসিকতায়। বাংলার সাপ্লাই লাইন তৈরি হয়ে যাবে। প্রাথমিক শিবিরে ৫০ থেকে ৬০ জন তরুণ প্রতিভাকে ডেকে নিয়ে বাছাই পর্বটা সেরে নেওয়া যেতে পারে। তাই তো ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস স্পষ্ট বলেছেন, বাংলার ফুটবলাররা যতদিন ভারতীয় দলকে সমৃদ্ধ করতে না পারছেন, ততদিন ভারত ফিফা রাঙ্কিংয়ে সামনে আসতে পারবে না।